বক্ষব্যাধি রোগের লক্ষণ কি কি? বিস্তারিত জানুন
বর্তমান সময়ের দ্রুতগতির জীবনযাপন, দূষিত পরিবেশ এবং তামাকজাত পণ্যের ব্যবহার আমাদের শ্বাসতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তার ফলে বক্ষব্যাধি বা ফুসফুস এবং বক্ষপিঞ্জর সংক্রান্ত রোগের প্রকোপ বেড়ে গেছে। অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে কাশি, শ্বাসকষ্ট বা বুকে ব্যথায় ভুগলেও বুঝতে পারেন না যে তারা বক্ষব্যাধি সমস্যায় আক্রান্ত।
এই
ব্লগে
আমরা
আলোচনা
করবো:
- বক্ষব্যাধি
কি?
- সাধারণ লক্ষণসমূহ
- কোন লক্ষণগুলো
গুরুতর?
- কখন দেখা করবেন বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ ডাক্তার?
- প্রতিরোধ
ও
সচেতনতা
বক্ষব্যাধি কী?
‘বক্ষব্যাধি’ বলতে
ফুসফুস,
বক্ষপিঞ্জর (thorax), ব্রঙ্কাস (bronchus), প্লুরা এবং
শ্বাসনালী-সম্পর্কিত রোগ
বোঝায়।
সাধারণভাবে যেসব
রোগ
এর
আওতায়
পড়ে
তা
হলো:
- হাঁপানি
(Asthma)
- ক্রনিক ব্রঙ্কাইটিস
- নিউমোনিয়া
- টিউবারকুলোসিস
(ক্ষয়রোগ)
- কপডি (COPD)
- ফুসফুসে পানি জমা
- ফুসফুসের
ক্যান্সার
বক্ষব্যাধির সাধারণ লক্ষণসমূহ
১. দীর্ঘমেয়াদি কাশি
সপ্তাহের পর
সপ্তাহ
ধরে
চলা
কাশি
যেটা
সহজে
আরাম
পাচ্ছে
না।
২. কাশির সঙ্গে রক্ত আসা
টিবি
বা
ফুসফুস
ক্যান্সারের একটি
প্রধান
লক্ষণ।
৩. বুকে ব্যথা বা চেপে ধরা অনুভব
বিশেষ
করে
কাশির
সময়
বা
শ্বাস
নেওয়ার
সময়
ব্যথা
হলে
অবহেলা
করবেন
না।
৪. শ্বাসকষ্ট
সিঁড়ি
বেয়ে
উঠলে,
ব্যায়াম করলে
বা
এমনকি
বিশ্রাম অবস্থাতেও শ্বাস
নিতে
কষ্ট
হওয়া।
৫. ঘন ঘন বুকে কিঞ্চিৎ শব্দ হওয়া (wheezing)
হাঁপানির লক্ষণ
হতে
পারে।
৬. জ্বর ও ঘাম
বিশেষ
করে
রাতে
ঘাম
হওয়া,
ক্ষয়রোগের (টিবি)
একটি
সাধারণ
উপসর্গ।
৭. ওজন হ্রাস ও ক্ষুধামান্দ্য
কোনও
স্পষ্ট
কারণ
ছাড়াই
ওজন
হ্রাস
পাচ্ছে
এবং
খিদে
কমে
গেছে?
৮. বারবার নিউমোনিয়া হওয়া
ফুসফুস
দুর্বল
হলে
সংক্রমণ সহজে
হয়।
কোন লক্ষণগুলোতে দ্রুত চিকিৎসা জরুরি?
- কাশির সাথে রক্ত
- হঠাৎ করে শ্বাস বন্ধ হয়ে আসা
- শরীর হঠাৎ খুব দুর্বল হয়ে পড়া
- বুকের ব্যথা হাত বা ঘাড়ে ছড়িয়ে পড়া
এই
ধরণের
উপসর্গ
থাকলে
দ্রুত
একজন
বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ ডাক্তার-এর
পরামর্শ নেওয়া
জরুরি।
কখন যাবেন বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞের কাছে?
যখন
আপনি:
- ৩ সপ্তাহের বেশি কাশিতে ভুগছেন
- বারবার নিউমোনিয়া
বা শ্বাসের সংক্রমণ হচ্ছে
- টিবির লক্ষণ (জ্বর, কাশি, রাতের ঘাম, ওজন হ্রাস) দেখা যাচ্ছে
- হাঁপানি বা COPD নিয়ন্ত্রণে
না থাকলে
এছাড়াও
যারা
ধূমপান
করেন
বা
অতীতে
ধূমপান
করেছেন
তাদের
বছরে
একবার
হলেও
ফুসফুসের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো
উচিত।
প্রতিরোধ ও করণীয়
- ধূমপান পরিহার করুন
- দূষণ থেকে বাঁচুন – মাস্ক ব্যবহার করুন
- ফুসফুসের
স্বাস্থ্য পরীক্ষায় নিয়মিত যান
- পুষ্টিকর
খাবার খান
- হাঁপানি রোগীরা ইনহেলার নিয়মমতো ব্যবহার করুন
- টিবির প্রতিরোধে
BCG টিকা নিন
উপসংহার
বক্ষব্যাধি বা
ফুসফুস-সম্পর্কিত রোগগুলো শুরুতে সাধারণ মনে
হলেও
দীর্ঘমেয়াদে মারাত্মক রূপ
নিতে
পারে।
তাই
সচেতনতা, সময়মতো
পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং
চিকিৎসা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি
উপরের
যেকোনো
লক্ষণ
দেখা
দেয়,
তবে
দেরি
না
করে
একজন
বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ ডাক্তার-এর
পরামর্শ নিন।

Comments
Post a Comment